নবজাতকের সর্দি কাশি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এটি মায়েদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পূর্ণাঙ্গভাবে গড়ে ওঠার আগ পর্যন্ত তাদের সর্দি কাশি হওয়া একটি সাধারণ ঘটনা। তবে, ঘন ঘন সর্দি কাশি হলে তার পেছনে কিছু কারণ থাকতে পারে এবং এর সঠিক চিকিৎসা প্রয়োজন।
![]() |
Photo by Antoni Shkraba |
নবজাতকের ঘন ঘন সর্দি কাশির কারণ
-
শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অপ্রাপ্তির পর্যায়: নবজাতকের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি, তাই তারা সহজেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে প্রথম ৬ মাস শিশুর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল থাকে, এবং তারা বেশিরভাগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।
-
শ্বাসনালীর সংক্রমণ: শিশুদের শ্বাসনালী খুবই সঙ্কুচিত এবং সংবেদনশীল থাকে, যার ফলে সর্দি, কাশি বা গলাব্যথা সহজেই হতে পারে। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সর্দি কাশি বৃদ্ধি পায়।
-
এলার্জি: শিশুর ত্বক এবং শ্বাসনালী খুবই সংবেদনশীল থাকে। ধুলাবালি, ধোঁয়া, ফুলের পরাগ, বা মাইটসের মতো এলার্জি সৃষ্টিকারী উপাদানগুলির কারণে সর্দি কাশি হতে পারে।
-
বুকের দুধে অ্যালার্জি: কিছু ক্ষেত্রে শিশুর বুকের দুধে থাকা কিছু উপাদান তাদের অ্যালার্জি সৃষ্টি করতে পারে, যা সর্দি কাশির কারণ হতে পারে।
-
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশ: শিশুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশে রাখা তার শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে এবং কাশি সৃষ্টি করতে পারে।
নবজাতকের সর্দি কাশি থেকে প্রতিকার ও সঠিক চিকিৎসা
-
বুকের দুধ খাওয়ানো: বুকের দুধ শিশুর শরীরের জন্য প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি প্রদান করে, যা সর্দি কাশি এবং অন্যান্য রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়। প্রথম ৬ মাসে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো উচিত।
-
শিশুর শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখা: শিশুর নাক বন্ধ হয়ে গেলে, ন্যাজাল ডিউস (nasal drops) বা নরম স্যালাইন দ্রাবক ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ধরনের দ্রাবক শিশুর শ্বাসনালীকে পরিষ্কার রাখে।
-
উষ্ণ পানীয় এবং বাষ্প নিন: শিশুর সর্দি কাশি কমাতে উষ্ণ পানীয় (যেমন, মা যদি বুকের দুধ খাওয়ান) বা বাষ্প দিতে পারেন। তবে, শিশুদের বাষ্প বা স্টিম দেয়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন তারা জ্বলন্ত বা গরম বাষ্পে না পুড়ে যায়।
-
শিশুর আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা: শিশুকে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পরিবেশে না রেখে উপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখা উচিত। ঘরের তাপমাত্রা ২০-২২°C রাখার চেষ্টা করুন।
-
বিশ্রাম এবং পর্যাপ্ত ঘুম: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং ঘুম দেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে এবং দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক হয়।
-
যথাযথ চিকিৎসক পরামর্শ: যদি শিশুর সর্দি কাশি বেশি দিন ধরে চলতে থাকে বা অন্য কোনো গুরুতর সমস্যা দেখা দেয় (যেমন, শ্বাসকষ্ট), তবে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কখনও কখনও শিশুকে অ্যান্টিবায়োটিক বা ভাইরাস-বিরোধী চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
নবজাতকের সর্দি কাশি সম্পর্কিত কিছু সাধারণ প্রশ্ন
-
শিশুর সর্দি কাশি কতদিন চলতে পারে?
সাধারণত, সর্দি কাশি ৫-৭ দিনের মধ্যে কমে যায়, তবে যদি এটি ১০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলে, তবে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত। -
শিশুর সর্দি কাশি কমানোর জন্য কি ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবহার করা যেতে পারে?
শিশুর জন্য ঘরোয়া চিকিৎসার মধ্যে স্যালাইন নাক ড্রপ, উষ্ণ পানীয় (বুকের দুধ) বা বাষ্প ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোনো চিকিৎসা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। -
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত?
যদি শিশুর সর্দি কাশি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ক্ষুধামন্দা বা বমি সহ কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
নবজাতকের সর্দি কাশি খুবই সাধারণ সমস্যা হলেও, এটি মায়ের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সঠিক পরিচর্যা, পুষ্টি এবং চিকিৎসকের পরামর্শের মাধ্যমে আপনি আপনার শিশুর সর্দি কাশি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। শিশুর জন্য উপযুক্ত যত্ন এবং মনোযোগ তাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
নবজাতকের সর্দি কাশি কতদিন চলতে পারে?
সাধারণত, সর্দি কাশি ৫-৭ দিনের মধ্যে কমে যায়, তবে যদি এটি ১০ দিন বা তার বেশি সময় ধরে চলে, তবে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
শিশুর সর্দি কাশি কমানোর জন্য কি ঘরোয়া চিকিৎসা ব্যবহার করা যেতে পারে?
শিশুর জন্য ঘরোয়া চিকিৎসার মধ্যে স্যালাইন নাক ড্রপ, উষ্ণ পানীয় (বুকের দুধ) বা বাষ্প ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে কোনো চিকিৎসা ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।
কখন চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত?
যদি শিশুর সর্দি কাশি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা শ্বাসকষ্ট, জ্বর, ক্ষুধামন্দা বা বমি সহ কোনো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তবে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।