শিশুর জন্মের পর তাদের চুলও ত্বকের মতোই সংবেদনশীল ও কোমল হয়। অনেক শিশুর জন্মের সময় খুব কম বা বেশি চুল থাকতে পারে, যা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। শিশুর চুলের সঠিক যত্ন না নিলে চুল পড়া, খুশকি, চুলের রুক্ষতা বা মাথার ত্বকের সংক্রমণ হতে পারে। তাই নবজাতকের চুলের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর চুলের বৈশিষ্ট্য
-
শিশুর চুল সাধারণত পাতলা ও নরম হয়।
-
চুলের শিকড় এবং মাথার ত্বক খুব সংবেদনশীল থাকে।
-
কিছু শিশুর জন্মের সময় বেশি চুল থাকতে পারে, আবার কারও খুব কম চুল থাকতে পারে।
-
জন্মের পর কিছু শিশুর চুল পড়ে যেতে পারে এবং নতুন চুল গজাতে সময় লাগে।
![]() |
Photo by ZERO 2 LIFE |
শিশুর চুলের যত্নের ১০টি কার্যকর উপায়
১. চুলের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি বুঝুন
শিশুর চুল জন্মের পর পড়ে যেতে পারে এবং এটি স্বাভাবিক। নতুন চুল গজাতে সাধারণত কয়েক মাস সময় লাগে। তাই অযথা উদ্বিগ্ন না হয়ে ধৈর্য ধরতে হবে।
২. কোমল শ্যাম্পু ব্যবহার করুন
শিশুর চুল ধোয়ার জন্য সুগন্ধিবিহীন ও কেমিক্যালমুক্ত মাইল্ড বেবি শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। সপ্তাহে ২-৩ বার চুল ধোয়া যথেষ্ট।
৩. চুল ধোয়ার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন
শিশুর মাথায় সরাসরি পানি ঢালবেন না। নরম তোয়ালে বা কাপড় ব্যবহার করে ধীরে ধীরে পানি ঢালুন এবং খুব বেশি ঘষাঘষি করবেন না।
৪. তেল ম্যাসাজ করুন
শিশুর চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রাকৃতিক নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি মাথার ত্বককে পুষ্টি জোগায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে।
৫. চিরুনি ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
শিশুর চুল আঁচড়ানোর জন্য নরম ব্রাশ বা চিরুনি ব্যবহার করুন, যাতে মাথার ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
৬. গরম ও ঠান্ডা আবহাওয়ার প্রভাব এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়া শিশুর মাথার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শীতকালে শিশুর মাথায় নরম টুপি পরান, তবে বেশি সময় ঢেকে রাখবেন না।
৭. খুশকি প্রতিরোধ করুন
অনেক শিশুর মাথার ত্বকে খুশকি বা ক্রেডল ক্যাপ দেখা দিতে পারে। এটি দূর করতে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতো করে মাথা পরিষ্কার করুন এবং নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করুন।
৮. শিশুর মাথা পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখুন
গোসলের পর শিশুর মাথার চুল ভালোভাবে মুছে শুকিয়ে নিন, যাতে ঠান্ডা না লেগে যায়।
৯. সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করুন
শিশুর চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে মায়ের দুধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বড় হলে পুষ্টিকর খাবার যেমন ডিম, মাছ, ফল ও শাকসবজি শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখুন।
১০. চুল পড়া বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি শিশুর চুল খুব বেশি পড়ে যায় বা মাথার ত্বকে লালচে দাগ, র্যাশ বা চুলকানি দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশুর চুলের যত্নের প্রয়োজনীয়তা
নিয়মিত যত্ন ও পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুর চুল সুস্থ ও সুন্দর রাখা সম্ভব। শিশুর মাথার ত্বকের স্বাভাবিক তেল ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করতে সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন নেওয়া জরুরি।
শেষ কথা
নবজাতকের চুলের যত্ন নেওয়া তাদের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক যত্ন ও পরিচর্যা নিশ্চিত করলে শিশুর চুল স্বাস্থ্যকর, ঘন ও মজবুত হবে। তাই শিশুর কোমল চুলের যত্ন নিতে এই গাইড অনুসরণ করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
শিশুর চুল পড়া কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, নবজাতকের চুল জন্মের পর কিছুটা পড়ে যেতে পারে, যা স্বাভাবিক। এটি কয়েক মাসের মধ্যে নতুন চুলের সঙ্গে প্রতিস্থাপিত হয়।
শিশুর চুল কতবার ধোয়া উচিত?
সপ্তাহে ২-৩ বার মাইল্ড বেবি শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধোয়া যথেষ্ট। অতিরিক্ত ধোয়া শিশুর মাথার ত্বক শুষ্ক করে ফেলতে পারে।
শিশুর চুলের যত্নে কোন তেল ব্যবহার করা ভালো?
প্রাকৃতিক নারকেল তেল, অলিভ অয়েল বা বাদাম তেল শিশুর চুলের জন্য উপকারী। তবে কেমিক্যালযুক্ত তেল এড়িয়ে চলা উচিত।
শিশুর মাথায় খুশকি হলে কী করব?
শিশুর মাথার ত্বকে খুশকি হলে নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে পরিষ্কার করুন এবং নিয়মিত নারকেল তেল ম্যাসাজ করুন।
নবজাতকের মাথা পরিষ্কার করার সঠিক পদ্ধতি কী?
গোসলের সময় শিশুর মাথায় সরাসরি পানি না ঢেলে নরম কাপড় বা তোয়ালে ব্যবহার করুন। মৃদু ম্যাসাজ করে চুল পরিষ্কার করুন এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।