শিশুর জন্মের পর তাদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়। নবজাতকের ত্বক প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক পাতলা এবং সহজেই শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। সঠিক পরিচর্যা না করলে ত্বকে লালচে র্যাশ, অ্যালার্জি, শুষ্কতা বা সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
![]() |
Photo by Nataliya Vaitkevich |
শিশুর ত্বকের বৈশিষ্ট্য
১. নবজাতকের ত্বক খুবই কোমল এবং সংবেদনশীল। ২. ত্বকের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যেতে পারে। ৩. সূর্যের আলো, ধুলাবালি, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদির প্রতি সংবেদনশীল। ৪. সহজেই র্যাশ বা অ্যালার্জি হতে পারে।
শিশুর ত্বকের যত্নের ১০টি কার্যকর উপায়
১. নবজাতকের ত্বকের সংবেদনশীলতা বুঝুন
শিশুর ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই তাদের জন্য ব্যবহৃত প্রতিটি পণ্য বেছে নেওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। সুগন্ধিযুক্ত সাবান, তেল বা লোশন এড়িয়ে চলুন।
২. ভারনিক্স কেসিওসার সুরক্ষা
জন্মের পরপরই শিশুর ত্বকে একটি সাদা প্রলেপ থাকে, যাকে ভারনিক্স কেসিওসা বলে। এটি শিশুর ত্বককে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। এই স্তরটি তাড়াহুড়ো করে ধুয়ে ফেলা উচিত নয়।
৩. সঠিকভাবে গোসল করান
নবজাতককে প্রতিদিন গোসল করানোর প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করানো যথেষ্ট। সাবান কম ব্যবহার করা উচিত এবং শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট মাইল্ড সাবান ব্যবহার করতে হবে।
৪. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
শিশুর মুখের লালা বা ডায়াপারের কারণে ত্বক নোংরা হতে পারে। তাই দিনে কয়েকবার মুখ ও ডায়াপার এলাকা পরিষ্কার করা দরকার।
৫. সঠিক ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন
শিশুর ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে বিশেষভাবে তৈরি শিশুদের ময়েশ্চারাইজার বা প্রাকৃতিক নারকেল তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
৬. সূর্যরশ্মি থেকে সুরক্ষা
নবজাতকের ত্বক সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির প্রতি সংবেদনশীল। তাই ৬ মাস বয়সের আগে সরাসরি সূর্যের আলোতে রাখা উচিত নয়। প্রয়োজন হলে ছায়ায় রাখুন এবং সূর্যরোধী পোশাক পরান।
৭. ডায়াপার র্যাশ প্রতিরোধ করুন
ডায়াপার র্যাশ থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন করুন। ডায়াপার এলাকায় প্রতিবার পরিবর্তনের সময় ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করতে পারেন।
৮. শিশুদের পোশাক নির্বাচন
সুতির নরম কাপড়ের পোশাক পরানো উচিত যাতে শিশুর ত্বকে কোনো চুলকানি বা অ্যালার্জি না হয়। নতুন পোশাক ব্যবহারের আগে অবশ্যই ধুয়ে নিন।
৯. গরম ও শুষ্ক পরিবেশ এড়িয়ে চলুন
অতিরিক্ত গরম বা শুষ্ক আবহাওয়া শিশুর ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শীতকালে হিটার ব্যবহারের সময় ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ঘরে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করতে পারেন।
১০. শিশুর ত্বক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন
শিশুর ত্বকে যদি কোনো ব্যতিক্রমী পরিবর্তন, লালচে র্যাশ বা চুলকানি দেখা যায়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শিশুর ত্বকের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
১. ডায়াপার র্যাশ
সমস্যা: দীর্ঘক্ষণ ভেজা ডায়াপার পরে থাকার কারণে হতে পারে। সমাধান: নিয়মিত ডায়াপার পরিবর্তন করুন এবং জিঙ্ক অক্সাইডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করুন।
২. একজিমা
সমস্যা: ত্বক শুষ্ক ও চুলকায়। সমাধান: অ্যালার্জি প্রতিরোধী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন এবং অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী উপাদান এড়িয়ে চলুন।
৩. নবজাতকের ব্রণ
সমস্যা: জন্মের পর কিছু শিশুর মুখে লাল ফুসকুড়ি দেখা যায়। সমাধান: সাধারণত এটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজে থেকেই চলে যায়। অতিরিক্ত সাবান বা তেল ব্যবহার না করাই ভালো।
শিশুর ত্বকের যত্নের প্রয়োজনীয়তা
শিশুর কোমল ত্বক সুস্থ ও সুন্দর রাখতে হলে নিয়মিত যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে শিশুর ত্বকের সংবেদনশীলতা বজায় রাখা যায় এবং বিভিন্ন ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
শেষ কথা
শিশুর ত্বক খুবই সংবেদনশীল, তাই সঠিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য সবসময় শিশুর ত্বকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। এই গাইড অনুসরণ করলে আপনার শিশুর ত্বক সবসময় সুস্থ ও কোমল থাকবে।